দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন (আইসিএসইটিইপি)’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রকল্প কার্যালয় পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তা ও পরামর্শকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিএসই ও আইটি ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে। একই সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মানসম্মত ও অভিন্ন কারিকুলাম প্রণয়নে সহায়তা করবে। ফলে আইসিটি খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সহজ হবে।
সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ও অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রকল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, সিএসই শিক্ষার বিদ্যমান নানা সমস্যা সমাধানে প্রকল্পটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শিক্ষক সংকট নিরসনে চাহিদা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভিজিটিং প্রফেসর নিয়োগের পাশাপাশি পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে টিমওয়ার্ক নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো পক্ষের অবহেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তার দায় ইউজিসির ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, এতে সংস্থার সুনামহানি ঘটার পাশাপাশি দেশের উচ্চশিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি প্রকল্পের অর্থ স্বচ্ছভাবে ব্যয় এবং অর্জনগুলো দৃশ্যমান করার নির্দেশনাও দেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। দেশে উপযুক্ত প্রশিক্ষক না থাকলে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ইউজিসির তত্ত্বাবধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ৮৭ দশমিক ৭২ শতাংশ অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।